গাজী টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, যিনি মাহমুদ সোহেল নামে পরিচিত, পরিবেশ সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য 'জাতীয় অ্যাওয়ার্ড গ্রিনম্যান-২০২৬' অর্জন করেছেন। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সবুজ আন্দোলন নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার। 'বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে করণীয়' শীর্ষক এই আলোচনা সভায় পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা সাতটি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট নাগরিককে গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
মাহমুদ সোহেলের দীর্ঘ ২৩ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এই পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমসহ সাংবাদিকতার প্রায় সব শাখায় কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
বিভিন্ন সময়ে তিনি দিগন্ত টিভি, এসএটিভি, এটিএন নিউজ এবং আজকের পত্রিকায় সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি দেশ টিভির অনলাইন ইনচার্জ এবং জিটিভির ডিজিটাল প্রধান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি গাজী টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।
তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ যশোর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক হিসেবেও কাজ করছেন। পরিবেশ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার বিশেষ আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে তিনি মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাহমুদ সোহেল তার দীর্ঘ কর্মজীবনে পরিবেশগত বিভিন্ন ইস্যু এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন ও জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তার এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সবুজ আন্দোলন তাকে গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মাহমুদ সোহেলের মতো সাংবাদিকদের কাজের প্রশংসা করেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচনা সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাহমুদ সোহেল তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু থেকেই পরিবেশগত সাংবাদিকতায় বিশেষ মনোযোগ দিয়ে আসছেন। তার এই দীর্ঘদিনের শ্রম ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির পর মাহমুদ সোহেল তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে পরিবেশ সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। ভবিষ্যতে তিনি পরিবেশ সাংবাদিকতায় আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এই সম্মাননা তার কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
