জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় তাঁদের কাছ থেকে পরিকল্পনা চেয়েছিলেন এবং তা প্রদান করার পর বর্তমানে তিনি নীরবতা পালন করছেন। শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১-দলীয় জোটের লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
শফিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী একবার বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সেই পরিকল্পনাটি সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পনাটি দেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী আর কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কোনো সমাধানও হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার বর্তমানে বিরোধীদের কাছে পরিকল্পনা চাইছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা কি ব্যর্থ হয়ে গেছে কি না। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিত হবে এটি স্বীকার করা যে তাঁদের পূর্বের পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন বিরোধীদের সাহায্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হিসেবে তাঁরা এই সহায়তা প্রদান করবেন এবং বিষয়টিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, সরকার 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা নির্বাচন কারসাজির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় আসার পর সরকার জুলাই সনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রতারণার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন শুরু করায় কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি মনে করেন, প্রতারণা করে সরকার গঠন করার কারণে তারা জনগণের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয়।
পথসভায় তিনি গাজীপুরের তরুণ সিফাত আবদুল্লাহর গ্রেপ্তারের বিষয়ে কথা বলেন। সিফাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। জামায়াত আমির জানান, সিফাত পড়ার টেবিলে বসে পড়ার সময় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।
তিনি সিফাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এই পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব. ) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
এই পথসভাটি ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের অংশ ছিল। লংমার্চটি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই লংমার্চের অংশ হিসেবে পথসভাগুলো আয়োজন করা হয়েছে।
১১-দলীয় জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধ দমন করা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন করা, এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার দাবিও এই জোটের পক্ষ dancer হিসেবে উত্থাপন করেছে।
