প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে এই জামিন আদেশ প্রদান করা হয়। এই জামিন আদেশের ফলে বিদিশা সিদ্দিকের কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পরদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। সেই সময় বিদিশার আইনজীবীরা আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিন আবেদন করা হয়। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে বিচারক শাহজাহান কবির সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর বিদিশার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৮ সালে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার গুলশান থানায় এই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে। গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আদালত তাকে পলাতক উল্লেখ করে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকার একজন স্যানিটারি পণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে বিদিশার সঙ্গে তার চুক্তি হয়।
ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।
২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে বাদী অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। এমনকি পাওনা টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে তাকে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে মামলাটির বর্তমান আইনি অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
