পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. আহাদ আলী খাঁন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার একটি কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আহাদ আলী খাঁনের বয়স ২১ বছর এবং তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি ওই কোয়ার্টারে বসবাস করতেন এবং শিশুটির পরিবারের সাথে তার পূর্বপরিচয় ছিল।
ঘটনার পর শুক্রবার রাত ১১টায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শিশুটির মা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় শিশুটি কোয়ার্টারের বারান্দায় খেলাধুলা করছিল। আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে আহাদ আলী খাঁন শিশুটিকে তাদের কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যান।
এরপর তিনি শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় ফাইয়াজ বিন খালেদ নামে এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখতে পান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং অভিযুক্তকে ধমক দেন। ফাইয়াজ বিন খালেদের উপস্থিতি টের পেয়ে আহাদ শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে। ঘটনার পর শিশুটি কান্নারত অবস্থায় কোয়ার্টারে ফিরে গিয়ে তার মায়ের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আহাদ আলী খাঁনকে থানায় নিয়ে আসে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান আসাদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত আহাদ আলী খাঁন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। শিশুটির নিরাপত্তা ও শারীরিক পরীক্ষার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই আহাদকে আটক করা হয়েছে।
বর্তমানে শিশুটি তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ঈশ্বরদী থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এই মামলার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত আহাদ আলী খাঁনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতের সহায়তা নেওয়া হতে পারে। পুরো বিষয়টি এখন আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করছে।
