পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার তুফানিয়া ও চরহেয়ারের মধ্যবর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ মোহনায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জেলেরা হলেন রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের হাবিব খাঁর ছেলে ২২ বছর বয়সী ইমন খাঁ এবং একই গ্রামের শহিদুল শিকদারের ছেলে ২৩ বছর বয়সী শাকিব শিকদার।
এই ঘটনায় ট্রলারে থাকা আরও তিন জেলে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন খাঁর মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে পাঁচজন জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বুড়াগৌরাঙ্গ মোহনায় জাল ফেলার সময় হঠাৎ বজ্রপাত ঘটে। এতে ট্রলারে থাকা পাঁচজন জেলেই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমন খাঁ ও শাকিব শিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিন জেলে বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সাইদুল প্যাদা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় পাঁচ জেলেকেই দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে এবং জেলেদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে নদীতে মাছ ধরার সময় এই আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেরা প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। নিহত জেলেদের পরিবার ও স্বজনরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। আহত তিন জেলে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জেলেদের সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোতে মাছ ধরার সময় জেলেদের সতর্ক থাকা এবং আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বজ্রপাতে দুই জেলের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিহত ইমন খাঁ ও শাকিব শিকদার দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পর জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জেলেদের জন্য কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
