পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকায় গভীর সমুদ্রে জেলেদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাছ, জাল এবং তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোররাত ৫টার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের মালিকানাধীন একটি ট্রলারে থাকা জেলেদের ওপর এই হামলা চালানো হয়। লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় হোসেন এবং সেলিম নামে দুই জেলে মারধর করা হয়ে থাকে। তারা দুজনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। ঘটনার পর তাদের মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম জানান, তাদের ট্রলারের চুকান ভেঙে যাওয়ায় তারা সমুদ্রে ভাসতে থাকে। এই সুযোগে ৪ থেকে ৫টি মাছ ধরার ট্রলার তাদের ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা তাদের ট্রলারের কাগজপত্র দেখালেও তা বিশ্বাস করেনি এবং উল্টো তাদের মারধর করে ট্রলারের চুকান ও বোটের তক্তাও ভেঙে দেয়।
মফিজুল ইসলাম জানান, তারা প্রাণভিক্ষা চেয়ে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হন। n
ট্রলারের মালিক দেলোয়ার জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি তার ট্রলারটি প্রয়োজনীয় বাজার-সাদাই করে সমুদ্রে পাঠিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, এফবি নুসরাত, এফবি মায়ের দোয়া এবং এফবি আল্লাহর দানসহ মোট ৪ থেকে ৫টি ট্রলারের মাধ্যমে হামলাকারীরা প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ, পাঁচ লাখ টাকার জাল এবং তেল লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা তেমন ছিল না, তবে সম্প্রতি গভীর সমুদ্রে তাদের তৎপরতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ টহল জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন তারকুন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ জানান, তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে জানালে জলদস্যুদের শনাক্ত ও আটক করা সহজ হয়। তিনি আরও জানান, যে কোনো প্রয়োজনে জেলেরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে সহযোগিতা চাইতে পারেন এবং কোস্টগার্ড সমুদ্র ও জেলেদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
n
এর আগে চলতি বছরের ৫ আগস্ট গভীর বঙ্গোপসাগরের খাম্বা বয়া বাতি এলাকায় এফবি মিম নামের আরও একটি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এক মাসের ব্যবধানে ফের এমন ঘটনায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
