এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ওসমান হাদির ফটোকপি বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঞ্জু বলেন যে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই লংমার্চকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে ক্ষমতায় যাওয়া তাদের বন্ধুরা আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে গেছেন।
নিজের একটি ভুলের কথা উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন যে তিনি চ্যাটজিপিটিতে বিএনপির ৩১ দফা লিখেছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, সেখানে চ্যাটজিপিটি তাকে তথ্য দিয়েছে যে বিএনপি ছয় মাসে তাদের নিজেদের ৩১ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন যে অনেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন যে কোনো ক্যাম্পাসে হল দখল হবে না, কোনো ক্যাম্পাসে নির্যাতন হবে না এবং কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হবে না। তবে তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের বন্ধুরা এই কথাগুলো মনে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সবকিছু ভুলে গেছেন।
সমাবেশের এক পর্যায়ে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাত তুলে ধরে মঞ্জু বলেন যে তিনি আরেকজন ওসমান হাদির ফটোকপি। তিনি সতর্ক করেন যে তাদের দাবিগুলো যদি মানা না হয়, তবে তারা প্রত্যেকেই ওসমান হাদি হয়ে যাবেন।
মঞ্জুর বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ এবং সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন করার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করার দাবিও জানানো হয়েছে। একই সাথে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করার বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোট তাদের রাজনৈতিক দাবিগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিপরীতে তাদের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করে যে সাধারণ মানুষের সমর্থন তাদের এই লংমার্চের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে এবং তারা দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান নেবেন।
