নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক চীনা পোশাক ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে গাড়িচালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালক জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। অভিযুক্ত জাহিদ হাসানের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানার কুলবাড়িয়া এলাকায় এবং তার বয়স ৩০ বছর।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল থেকে জাহিদ হাসান ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান চীনা নাগরিক ইউ শ্যালীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত একটি কারখানায় দাপ্তরিক কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করে চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন জাহিদ। পথিমধ্যে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাব হোটেলের সামনে গাড়িটি থামান চালক।
এ সময় ইউ শ্যালী খাবার খাওয়ার জন্য হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন। এই সুযোগে চালক জাহিদ গাড়িটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি গুলশানের একটি কফিশপের পার্কিংয়ে গাড়িটি রেখে ভেতরে থাকা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। খাবার শেষ করে ফিরে এসে চেয়ারম্যান তার গাড়ি এবং চালক উভয়কেই খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
চালকের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার বাদী আকরামুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর চালক জাহিদ হাসান চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠান। সেই বার্তায় তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি পরিস্থিতির চাপে পড়ে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং তিনি জীবনে কখনো কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করেননি।
তিনি আরও লেখেন যে, যদি তিনি বেঁচে থাকেন তবে ভবিষ্যতে এই টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বর্তমানে তিনি অনুতপ্ত এবং কান্নাকাটি করছেন বলেও বার্তায় জানান। পরবর্তীতে গুলশানের লে ডি’অর কফিশপের পার্কিং থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে গাড়ির পেছনের ডালায় রাখা এক কোটি টাকা ভর্তি ব্যাগটি সেখানে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী চীনা নাগরিক ইউ শ্যালী প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গাজীপুরে তার মালিকানাধীন চারটি কারখানা রয়েছে এবং তিনি গুলশানে বসবাস করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। রূপগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছে।
