নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় একজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর নদী পুলিশ স্টেশনের এএসআই মোঃ আব্দুল মান্নান গত শুক্রবার রাত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় খেয়াঘাটের এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এএসআই মাননানের এই আচরণের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী এএসআই মান্নান মাঝরাতে হঠাৎ খেয়াঘাটে উপস্থিত হন এবং মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি তার নিজের মোবাইল ফোন এবং সেখানে উপস্থিত থাকা দুইজন ব্যক্তির হ্যান্ডসেট ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়াও তিনি খেয়াঘাটের ভাড়া সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত একটি বক্স থেকে টাকা নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। পরে এএসআই মান্নান ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে গালিগালাজ করতে এবং গান গাইতে শোনা যায়। নারায়ণগঞ্জ নৌভেল পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন যে এএসআই মান্নানকে বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে এএসআই মাননানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এএসআই মাননানের এই আচরণের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।
এএসআই মাননানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এএসআই মান্নান বর্তমানে পুলিশ লাইনের অধীনে রয়েছেন এবং তার ওপর থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে না। এই ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সাধারণ মানুষ পুলিশের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তবে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে তদন্ত রিপোর্ট আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এএসআই মাননানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং পুলিশ বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সময় এবং স্থান এবং এএসআই মাননানের আচরণের বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করছে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিশ্চিত করা যাবে। এএসআই মান্নান বর্তমানে পুলিশ লাইনের অধীনে কাজ করছেন এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এএসআই মান্নানকে নিয়ে ওঠা এই অভিযোগগুলো এখন পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
