নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় শুভ দাস নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ওই এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শুভ দাসের বয়স ৩২ বছর। তিনি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার মতলব বাজার এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে।
তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের গলাচিপা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, হকার্স মার্কেট সংলগ্ন রাস্তার মাথায় খোকন সাহেবের বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. কাজল মিয়া মরদেহটি উদ্ধার করেন। এরপর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে, যা ভিক্টোরিয়া মর্গে নামে পরিচিত, পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শুভ দাস তার পরিবারের সাথে চাঁদপুরে থাকলেও পেশাগত বা ব্যক্তিগত কারণে নারায়ণগঞ্জের গলাচিপা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। শুক্রবার রাতে যখন স্থানীয়রা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন, তখন তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেন।
ঘটনার স্থানটি শহরের একটি ব্যস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পাশে তিন রাস্তার মোড়ে খোকন সাহেবের বাড়ির সামনেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি সরিয়ে নেওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও জানান, এই ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক সময় এবং গুলির ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. কাজল মিয়া মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। পুলিশ এখন চেষ্টা করছে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর কোনো সাক্ষ্য পাওয়া যায় কি না, যাতে খুনের রহস্য উদঘাটন করা যায়।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করেছে এবং তারা বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
