নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় শাকিল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি তার বাবা আব্দুল বাসেদ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ভারতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বাসেদ মিয়া পেশায় ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন এবং তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে আব্দুল বাসেদ এবং তার বড় ছেলে শাকিল চৌধুরী একই ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। ঘরে ঢুকে তারা আব্দুল বাসেদকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শাকিল চৌধুরী ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেছেন। আব্দুল বাসেদের স্ত্রী সখিনা বেগম এবং অপর ছেলে নূরুন্নবী রাশেদ তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিল তাদের ওপরও হামলা চালান। এতে সখিনা বেগম ও নূরুন্নবী রাশেদ আহত হন। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাসেদের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী পালিয়ে যান। নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম এই ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, তার বাবা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত শাকিল পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, যার ফলে তারা আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। হাফসা বেগম অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী এর আগেও একটি মামলায় জেল খেটেছেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। বর্তমানে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানার জন্য পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আব্দুল বাসেদ মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী কেন এমন সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে তার পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুল বাসেদ মিয়া এলাকায় একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
