নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ ওরফে কুত্তা শ্রাবণ গ্রুপ এবং নবী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান রূপগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাজমুল হোসেন (৩০), নিহাল মিয়া (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২০) এবং শফিকুল ইসলাম (২৪)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত চারজনই নবী গ্রুপের সদস্য এবং তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, রূপগঞ্জের তারাবো বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এই বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সদস্যরা প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং একে অপরের ওপর হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই গ্রুপের সদস্যরা আবারও অস্ত্রের মহড়া দেয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় তারাবো বাজার এলাকায় পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের সময় নবী গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ওই চারজনকে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে। স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রূপগঞ্জ এলাকায় এই দুই গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও পুলিশের অভিযানের পর পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
