ভূমি মন্ত্রণালয় নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ার সময় জমির বাস্তব বা প্রকৃত শ্রেণিকে রেকর্ডিয় শ্রেণি হিসেবে নামজারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ই-মিউটেশন সিস্টেমে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স অনুবিভাগ থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রেকর্ডিয় শ্রেণি হালনাগাদ না থাকা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে অথবা মানুষের প্রয়োজনে জমির শ্রেণি পরিবর্তিত হয়ে থাকে। কিন্তু এই পরিবর্তিত শ্রেণি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাজে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জমির শ্রেণি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত না থাকলে ভূমি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের সময় ভূমির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।
এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে নিয়মিতভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় রেকর্ডিয় শ্রেণি হালনাগাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভূমি হস্তান্তরের মাধ্যমে বা ওয়ারিশ সূত্রে কোনো ব্যক্তি জমির মালিকানা অর্জন করার পর নামজারি করতে হয়। নামজারির মাধ্যমে মূলত জমির রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়।
তাই নামজারির প্রক্রিয়ার সঙ্গেই ভূমির প্রকৃত শ্রেণিকে রেকর্ডিয় শ্রেণিতে রূপান্তর করে তা হালনাগাদ করা সম্ভব বলে মন্ত্রণালয় মনে করছে। তবে বর্তমানে ই-মিউটেশন সফটওয়্যারে নামজারি করার সময় রেকর্ডিয় শ্রেণি হালনাগাদ করার কোনো সুযোগ নেই। এই সীমাবদ্ধতার কারণে নামজারির সময় ভূমির বাস্তবে ব্যবহৃত শ্রেণি খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করা হয় না।
ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ ভূমির যথাযথ মূল্য নির্ধারণ এবং সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য ভূমির রেকর্ডিয় শ্রেণি নিয়মিত হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ভূমি মন্ত্রণালয় ই-মিউটেশন সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি নামজারির আবেদন করলে আবেদন মঞ্জুরের সময় বাস্তব শ্রেণিকে রেকর্ডিয় শ্রেণি হিসেবে নামজারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা ই-মিউটেশন সিস্টেমে চালু করতে হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভূমি মালিকদের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে চলে আসবে। এতে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় এই ডিজিটাল সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য প্রকল্প পরিচালককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
এর মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়ার ফলে ভবিষ্যতে জমির শ্রেণি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর হবে এবং ভূমি মালিকরা তাদের জমির প্রকৃত শ্রেণি অনুযায়ী সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ভূমি মন্ত্রণালয় মনে করে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জমির শ্রেণি হালনাগাদ করার এই প্রক্রিয়াটি ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
