নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কানিজ রাবেয়া রথী, যিনি চলচ্চিত্রে চাঁদনী নামে পরিচিত, তাঁর শৈশব ও কর্মজীবনের বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের পরিবারে বেড়ে ওঠা রথীর শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে। তাঁর বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মরত ছিলেন।
শৈশব থেকেই ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। মোহাম্মদপুরের কিশলয় স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৭ সালে তাঁর পরিবার উত্তরায় স্থানান্তরিত হয় এবং তিনি উত্তরা হাইস্কুলে ভর্তি হন। কিশোরী বয়সে সংসদ ভবন এলাকায় সময় কাটানো এবং সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো তিনি বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছেন।
রথীর বিনোদন জগতে যাত্রা শুরু হয় ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তবে এর আগেই সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আগমন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অবুঝ দুটি মন’ চলচ্চিত্রটি তাঁকে দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদেই তিনি চাঁদনী নামে পরিচিতি পান। চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি নাটক, টেলিছবি ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। তবে ৩৩ বছর আগে বড় পর্দা থেকে সরে আসার পর গত ১৫ বছর ধরে তিনি অভিনয় জগত থেকে দূরে রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
১৯৯১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কিছুদিন ইস্কাটনে বসবাস করেন এবং ১৯৯৫ সালে বড় ছেলে দানিশের জন্মের পর উত্তরায় স্থায়ী হন। রথী ও জেমস দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে—আবরার আলভী দানিশ ও জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁদের ছেলে দানিশ পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ভিডিও তৈরির কাজ করছেন এবং মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
সময়ের পরিক্রমায় রথী ও জেমসের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে এবং তাঁরা দুজনেই পরবর্তীতে নতুন করে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগী হন। রথীর ভাই ভিক্টর তাঁদের উত্তরার বাসায় তোলা কিছু পুরোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা তাঁদের অতীতের স্মৃতিচারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই চিত্রনায়িকা বর্তমানে অভিনয় জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাধারণ জীবনযাপন করছেন।
তাঁর শৈশবের ছবিগুলো এবং কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় দর্শকদের কাছে এখনো আগ্রহের বিষয় হয়ে রয়েছে। চলচ্চিত্রের সেই আলোচিত চাঁদনী এখন কেবল স্মৃতির পাতায় এবং পুরোনো কিছু ছবির মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে বেঁচে আছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী সময়টি নব্বইয়ের দশকের ঢালিউডের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার পর তিনি এখন নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
