নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চরহাইজদা উপপ্রকল্পের ফসলরক্ষা বাঁধ থেকে লুট হওয়া কংক্রিটের ব্লকগুলো ফেরত আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ব্লকগুলো পুনরায় বাঁধের নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্লক উদ্ধার করে বাঁধের নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হয়েছে।
আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি ব্লকগুলোও ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে নেত্রকোনার উত্তর বরান্তর বাজারসংলগ্ন চিকাডুবি হাওর এলাকায় ফসলরক্ষা বাঁধের ওপরের কংক্রিটের ব্লকগুলো খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, টানা ১২ দিনে বাঁধের প্রায় ২৫০ মিটার অংশ থেকে অন্তত ২ হাজার ৫০টি কংক্রিটের ব্লক লুট করা হয়।
এই ব্লকগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। বাঁধের ব্লকগুলো সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ফসল রক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, আসন্ন বোরো মৌসুমে বাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়লে হাওরের ফসল বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভাঙন সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত ব্লকগুলো ফিরিয়ে এনে বাঁধটি পুনরায় সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। চরহাইজদা উপপ্রকল্পের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধটির মোট দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে এই বাঁধের অতি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো শক্তিশালী করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার অংশ কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই নির্মাণ কাজে মোট ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। এই বাঁধটি ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরী উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে আসছে। বাঁধের ব্লক চুরির বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্লক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং এরই মধ্যে ১ হাজার ৫০০টি ব্লক ফেরত এসেছে। বাকি ব্লকগুলো দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফসল রক্ষার এই স্থায়ী বাঁধটি যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের ব্লকগুলো পুনরায় স্থাপন করার মাধ্যমে হাওরের কৃষকদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে বাঁধের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় জোরদার করা হচ্ছে।
কৃষকরা এখন আশা করছেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ব্লক ফেরত আসার মাধ্যমে বাঁধটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এবং আসন্ন বোরো মৌসুমে তাদের ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। বাঁধের এই অংশটি হাওরের কৃষি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সুরক্ষিত রাখা স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
