স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন যে বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষের নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত বাংলাদেশি হিসেবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে রাষ্ট্রের মূল নীতি হলো সবার জন্য বাংলাদেশ। তিনি জানান যে সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গঠন করা যেখানে ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়ের চেয়ে জাতীয় পরিচয় বড় হয়ে উঠবে।
অতীতে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল, তাদের সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ দেশের সচেতন জনগণ ভেঙে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আচার পালন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন।
তিনি বলেন যে জনগণই বিচারক এবং তারা গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে আগামী দিনেও সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের সংবিধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করার সুযোগ নেই।
সরকার কেবল সংবিধানে এই অধিকার সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং বাস্তবেও সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং সেগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। ভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে এখন থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের পরিবর্তে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি মনে করেন যে সাম্প্রদায়িক শব্দটি ব্যবহারের আর প্রয়োজন নেই। এই ইতিবাচক চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর ও সুসংহত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত সবাইকে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো বৈষম্য রাখা হবে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
