ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা সহজতর করা এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক সই করেছে। বুধবার নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ব্যাংকগুলো ডিএসসিসি এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য সেবামূলক ফি অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করবে। এই উদ্যোগের ফলে নগরবাসীর সময় সাশ্রয় হবে এবং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আধুনিকায়ন নিশ্চিত হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেবা গ্রহণ এবং রাজস্ব পরিশোধের প্রক্রিয়া যত সহজ হবে, নগরবাসীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সম্পৃক্ততা তত বৃদ্ধি পাবে।
এই লক্ষ্য অর্জনেই পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসক আরও জানান, বর্তমানে ডিএসসিসিতে নিবন্ধিত হোল্ডিংয়ের সংখ্যা দুই লাখ ৯০ হাজার, যা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। সিটি করপোরেশন করের হার বৃদ্ধি না করে নতুন নতুন হোল্ডিংকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক ব্যাংকগুলোর প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বিশেষ করে সংগীত বিদ্যালয়, পাঠাগার, ব্যায়ামাগার, পাবলিক টয়লেট, খেলার মাঠ এবং রাস্তার নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। তিনি মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগই ঢাকাকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সমঝোতা স্মারকে ডিএসসিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান। অন্যদিকে, নিজ নিজ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তির মাধ্যমে ডিএসসিসি তাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
নাগরিকরা এখন থেকে তাদের সুবিধামতো সময়ে ও উপায়ে সিটি করপোরেশনের পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন। এটি একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা এবং নগরবাসীর আস্থা অর্জন করাই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে নগর উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজতর হবে এবং সেবার মান আরও উন্নত হবে।
