স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার চারজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাবেক যুগ্ম কমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজ আল ফারুক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। বরখাস্ত হওয়া এই চার কর্মকর্তা বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আইনানুগ আদেশ অমান্য করা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তে এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ এবং কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কেউই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পিএসসি এই চার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ২৭ আগস্ট তাদের বরখাস্তের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
এরপর বুধবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যথাযথ অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়।
এই চার কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ার পর বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তাদের বরখাস্তের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই চার কর্মকর্তা বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের সময় কঠোর গোপনীয়তা ও নিয়মকানুন বজায় রাখা হয়েছে। শোকজ নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা এখন থেকে আর কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
