শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৪৩ জন সহকারী শিক্ষকের চাকরি নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত রবিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ করার পর এই শিক্ষকদের চাকরি নিয়মিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত থাকা শিক্ষকরা এখন থেকে সরকারি চাকরির পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকেই বেতন ও ভাতাদি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি, যোগদানের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বকেয়া বেতন ও ভাতাসহ অন্যান্য সকল আর্থিক সুবিধা তাদের প্রদান করা হবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এই শিক্ষকদের চাকরির নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, যার মধ্যে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের নিয়োগপ্রাপ্তরাও রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
চাকরির নিয়মিতকরণের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে তারা তাদের চাকরিকালীন সময়ের সকল আর্থিক সুবিধা যথাযথভাবে পাবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২১-এর আলোকে এই শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তাদের চাকরি নিয়মিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত এই শিক্ষকরা এখন থেকে তাদের নিয়মিত পদের বিপরীতে বেতন স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যোগদানের তারিখ থেকেই তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এর ফলে তাদের জ্যেষ্ঠতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধাগুলোও সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়মিত হওয়া এই শিক্ষকরা এখন থেকে সরকারি চাকরির সকল নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসগুলোকে এই শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও ভাতাদি হিসাব করে দ্রুত পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরির এই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো এবং তাদের পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে থাকে, তারই ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
