বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের বর্তমান অবস্থা এবং ঋণের বোঝা কমানোর বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ঋণের চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার এই কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত এই ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে, যার পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বলে অর্থমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।
দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার নিয়মিত তদারকি করছে। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঋণের বোঝা কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্য দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি বড় দিক উন্মোচন করেছে। জনগণের মাথাপিছু ঋণের এই হিসাব এবং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেশের আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জগুলোকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব নীতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে বলে সংসদকে জানানো হয়েছে।
