জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশকে রক্ষার স্বার্থে তার দুই সন্তানকে নিয়ে দেশত্যাগ করেননি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এই দেশকেই তার একমাত্র ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশের প্রতি তার এই অঙ্গীকার অটুট ছিল। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা ‘শুধু মাধবীর জন্য’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, আইনমন্ত্রী তার এই গ্রন্থে বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার যে আকুতি প্রকাশ করেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, লেখকের এই লেখনী ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বইটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং লেখকের লেখনশৈলীর প্রশংসা করেন।
বইটির লেখক আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে লেখেন না। বরং তার নিত্যদিনের অন্তর্জ্বালা, দুঃখ, ভালোলাগা, উপেক্ষার দহন এবং অবহেলার মতো ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো যখন তাকে মানসিকভাবে পীড়িত করে, তখনই তিনি তা লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাধবী একটি কাল্পনিক নাম, যার উদ্দেশ্যে তিনি তার মনের কথাগুলো লিখে থাকেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হয়েও আইনমন্ত্রী যে ধরনের সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন, তা পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত অন্য যেকোনো বইয়ের তুলনায় এই বইটি পাঠকদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং দুর্বা গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কিউ এম ডি আহমেদ সুমন। অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন তার বক্তব্যে বইটির সাহিত্যিক মান নিয়ে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন প্রতিধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট শিমুল পারভীন।
অনুষ্ঠানজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল। এর মধ্যে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পুঁথি পাঠ, কবিতা পাঠ, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এই আয়োজনে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আলোচকরা আইনমন্ত্রীর এই বইটিকে গণতন্ত্র এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য দলিল হিসেবে অভিহিত করেন।
তারা মনে করেন, এই ধরনের সাহিত্যকর্ম সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বইটির সাফল্য কামনা করেন এবং লেখকের আরও সাহিত্যকর্ম প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সবশেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পী ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
