বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চলতি বছরে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই নতুন মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরে দেশে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন।
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুইজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৮০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৩৮৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করছে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তা বিগত সময়ের তুলনায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মশা নিধনে স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। তবে বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। এই তথ্যগুলো স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সেবায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
