দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার এক লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি প্রশিক্ষিত ভিত্তি গড়ে তোলার কাজ করছে। তিনি জানিয়েছেন যে এই লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় উদ্ধার কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জনই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি এবং উদ্ধার সরঞ্জামের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, সরকার ভূমিকম্পের পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা বেশ দীর্ঘ। সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের উদ্ধার সরঞ্জাম ক্রয় করেছে এবং সেগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, বর্তমানে আরও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই সরঞ্জামগুলো সংগ্রহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কাছে থাকা উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকাও সরকার তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কাছে থাকা সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে যেকোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়। সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিতভাবে নতুন নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং জনবল প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের এই বিশাল বাহিনীকে দুর্যোগের সময় মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার তৎপরতা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় এবং আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান যে, দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং উদ্ধার কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ এবং উদ্ধার সরঞ্জামের আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। সংসদ অধিবেশনে দেওয়া এই তথ্যের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের বর্তমান সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে।
