সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
National মিনিট পড়া
|১০০%|

তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ ও প্রতিকার

তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ ও প্রতিকার
তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ ও প্রতিকার — বাংলা ধ্বনি

বর্তমান সময়ে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক ক্লান্তির মতো সমস্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় এই ধরনের সমস্যাকে বয়সের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও মাথা ভার থাকা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে করতে না পারা কিংবা কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগের অভাব তরুণদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কাজের চাপের কারণে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাচ্ছে না। সারাক্ষণ স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল এবং অফিসের বার্তার মাধ্যমে মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত তথ্যের চাপে থাকছে।

এই পরিস্থিতিকে অনেকে ব্রেইন বার্নআউট বা মস্তিষ্কের ক্লান্তি হিসেবে অভিহিত করছেন। একই সময়ে একাধিক কাজ করার প্রবণতা বা মাল্টিটাস্কিং মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। একটি কাজ শেষ না করেই অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার ফলে দীর্ঘ সময় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এর ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য মনে করতে দেরি হওয়া এবং ব্রেইন ফগ বা মস্তিষ্কে কুয়াশাচ্ছন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। চাপের মুখে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

এর ফলে একই তথ্য বারবার পড়ার পরেও মনে না থাকা, কাজে বিরক্তি আসা এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করে। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা, পুষ্টির অভাব এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণও অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ জীবনযাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত কার্যকর। হাঁটা বা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রচুর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে মাল্টিটাস্কিং পরিহার করে একটি কাজ শেষ করে অন্য কাজে যাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের মাঝে বিরতি নেওয়া এবং কর্মঘণ্টার বাইরে ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।

মেডিটেশন, মাইন্ডফুলনেস এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অবসর সময়ে শখের চর্চা বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো মনকে সতেজ রাখে। তবে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে সেটিকে কেবল ব্যস্ততার ফল হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

কারণ এই ধরনের লক্ষণের পেছনে ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা হরমোনের পরিবর্তনের মতো শারীরিক কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। মস্তিষ্ক শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই বিশ্রাম ও যত্ন দাবি করে। তাই কাজের ফাঁকে বিরতি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমেই মানসিক কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
শারমীন সুলতানা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: শারমীন সুলতানা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫