সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের একমাত্র ছেলে নিবিড় কুমার কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার তিন বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। দুর্ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কানাডায় ছেলের চিকিৎসার পাশে অবস্থান করছেন এই শিল্পী। নিবিড়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন যে, তার ছেলে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
দীর্ঘ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা নিবিড়ের শারীরিক উন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা। কুমার বিশ্বজিৎ জানান, নিবিড়ের সুস্থতার জন্য তিনি নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ছেলের জন্য তাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে নিবিড়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশ ও বিদেশের অসংখ্য মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা জানিয়েছেন।
এই কঠিন সময়ে মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। ছেলের চিকিৎসার প্রয়োজনে গত কয়েক বছর ধরে কুমার বিশ্বজিৎকে কানাডায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময় কানাডায় থাকলেও তিনি সংগীত থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি। বরং ছেলের চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন।
কুমার বিশ্বজিৎ জানান, কানাডার পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতেও নিয়মিত স্টেজ শো বা সরাসরি সংগীতানুষ্ঠানে গান করেছেন। কানাডায় এরই মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন। তবে সংগীতের এই ব্যস্ততার চেয়েও কুমার বিশ্বজিতের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো তার ছেলের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা।
নিবিড়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যে জানা যায় যে, দুর্ঘটনার পর থেকে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কুমার বিশ্বজিৎ তার বক্তব্যে নিবিড়ের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করলেও পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য যে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করেছেন।
পরিবারের একমাত্র সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থায় একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা তার কথায় ফুটে উঠেছে। তবে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিবিড় যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেই প্রত্যাশাই এখন প্রধান। সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছেলের পাশে থাকা এবং তার চিকিৎসার তদারকি করা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে চলছেন কুমার বিশ্বজিৎ।
কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে নিবিড়ের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নিবিড়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধীরগতিতে হলেও ইতিবাচক দিকেই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুমার বিশ্বজিতের এই দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছেও সমাদৃত হয়েছে।
নিবিড়ের সুস্থতার জন্য দেশ-বিদেশের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই এই কঠিন সময়ে তাদের বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। কুমার বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন যে, নিবিড়ের সুস্থতা নিশ্চিত করাই এখন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
