জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে কঠোর পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগার থেকে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাশেদুল ইসলাম ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌমুনী বাজার এলাকার ধনতলা গ্রামের বাসিন্দা মরহুম শামসুদ্দীনের ছেলে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের জয়পুরহাট জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২২ আগস্ট থেকে তিনি একটি নাশকতার মামলায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে দায়ের করা ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাশেদুল ইসলামের মা রহিমা বিবি বার্ধক্যজনিত কারণে এবং স্ট্রোকের শিকার হয়ে মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তাকে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মঙ্গলবার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাশেদুল ইসলামকে পুলিশ পাহারায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নেন এবং দাফন সম্পন্ন করেন।
জানাজা ও দাফন শেষে তাকে পুনরায় পুলিশি হেফাজতে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার উম্মে সালমা। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা ও দাফনকার্য সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাশেদুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় লোকজন এবং তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন। মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পারায় রাশেদুল ইসলাম কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, প্যারোল হলো একটি বিশেষ আইনি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কোনো বন্দি ব্যক্তি বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু বা অসুস্থতার সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাগারের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পান।
এই প্রক্রিয়ায় বন্দিকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে তাকে অবশ্যই কারাগারে ফিরে আসতে হয়। রাশেদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও এই আইনি নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে। পুলিশি পাহারায় তাকে বাড়িতে আনা এবং জানাজা শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের তদারকিতে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে তিনি পুনরায় কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতার মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে বন্দিকে শেষ বিদায়ের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় সামনে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
