ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ৩১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তাদের সকলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সানিউর রহমান, মো. শাওন খান, মো. রুবেল, মো. রমজান আলী, কুলসুম বেগম, মো. পারভেজ ওরফে জয়, মো. শরিফুল ইসলাম, মো. শফিক, মো. সোহেল, আঃ ম সোহেল মোল্লা, মো. সজল, মো. শাকিল আহম্মেদ, মো. মনির হোসেন, মোহাব্বত, মো. শাকিল, মো. আকাশ, মো. রাজীব, মো. সাগর হোসেন, মো. আয়াতুল্লাহজিকো, মো. তালেব, মো. পারভেজ, মো. মোবারক হোসেন বাবু, মো. সুমন, শফিউল আলম, মো. রাজিবুল হক, মো. সোহেল হাওলাদার, মো. সাজেদুল, মো. আকাশ, মো. তরিকুল হাওলাদার, মো. শাহআলম, মো. রেজোয়ান আনছারী, মো. বালাকুল মিয়া, মো. বাদশা, মো. শাহাদত হোসেন, মো. মনির মিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. ডালিম, মো. সাগর, ভিকি, আলিফ আহম্মেদ শেখ তামিম, মো. ফারুক হোসেন, সায়েম, মো. সাব্বির, মো. রাজু, মো. ফরহাদ, মো. মাহিম, মো. শাকিল, মো. রাব্বি, মো. শেখ রিফাত আহম্মেদ, মো. উজ্জল, মো. হাসনাত আরাফাত আকাশ, মো. মেহেদী, মো. তাজুল ইসলাম, মো. পাপ্পু সর্দার ওরফে মো. পিয়াস ওরফে পাপ্পু, শামীম, মো. রফিক, আলমগীর হোসেন, পারভেজ এবং আমজাদ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বয়স ও পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।
ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়। তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর পর তাদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না তা তদন্তকারী কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। এই অভিযানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতাকে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নির্মূলের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এখন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
