ঢাকার বাতাসের মান আজ বৃহস্পতিবার সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে অবস্থান করছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার সূচকে ঢাকার বাতাসের দূষণের স্কোর ১০৬ রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্বের ১২৫টি শহরের বায়ুদূষণের মান সূচকে ঢাকা বর্তমানে দশম অবস্থানে রয়েছে।
বায়ুদূষণের এই মাত্রা মূলত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার বাতাসের মান বছরের বেশিরভাগ সময় অস্বাস্থ্যকর বা সংবেদনশীলদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। বিশেষ করে শীতকাল বা শুষ্ক মৌসুমে এই দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে বা যে দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়, সেসব দিনেও নগরবাসী নির্মল বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাতাসের মান সূচকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শহরের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা অনেক ভালো বা স্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান মাঝারি বা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর বেশি স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০৬ হওয়ায় এটি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে রয়েছে। এদিকে বিশ্বের অন্যান্য শহরের বায়ুর মানের দিকে তাকালে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার কুচিং শহর ২৭৪ স্কোর নিয়ে দূষণের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা উগান্ডার কাম্পালার স্কোর ১৬১ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ১৫৮। এছাড়া তালিকার শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ভারতের কলকাতা, ভিয়েতনামের হ্যানয়, চীনের চেংদু এবং পাকিস্তানের লাহোর। অন্যদিকে, বাতাসের মানের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার এবং নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড।
এই শহরগুলোর স্কোর মাত্র ১০। ঢাকার বাতাসের এই দূষণ পরিস্থিতি নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই ধরনের বাতাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বায়ুদূষণের এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বারবার উঠে আসছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণ কাজের ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় দূষণের মাত্রা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সময় পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাতাসের মান সূচকের এই তথ্য প্রতিদিনের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়।
ঢাকার বাতাস যে দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকছে, তা নগর পরিকল্পনায় পরিবেশগত সুরক্ষার অভাবকেই নির্দেশ করে। আগামী দিনগুলোতে বাতাসের মান উন্নত হবে কি না, তা নির্ভর করছে আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং দূষণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপের ওপর।
