রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুল নামক স্থানে অবস্থিত একটি আসবাবপত্রের গুদামে রবিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবরটি পান। খবর পাওয়ার পরপরই বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
প্রায় ৪০ মিনিটের নিরলস প্রচেষ্টার পর সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। গুদামে থাকা দাহ্য পদার্থ বা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বাড্ডার সাতারকুল এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী কোনো ভবনে বা বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদামটিতে প্রচুর পরিমাণে কাঠ ও আসবাবপত্র তৈরির সরঞ্জাম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল।
তবে দমকল বাহিনীর কর্মীরা সময়মতো পৌঁছানোয় বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় গুদামের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছিল কি না, সে বিষয়েও ফায়ার সার্ভিস কোনো তথ্য দেয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ডাম্পিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর গুদামটি মালিকপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাটিতে সাময়িকভাবে যান চলাচল ও জনজীবনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওই এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে পুনরায় কোথাও আগুনের সূত্রপাত না হয়। গুদামটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তাও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হবে। সাধারণত এ ধরনের গুদামে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব বা বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল খুব দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করবে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
