ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী থেকে মোট ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ৪৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩৬ জন গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া মতিঝিল বিভাগে ৫৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪২ জন, গুলশান বিভাগে ৩৬ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৩ জন, রমনা বিভাগে ২৬ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই নিয়মিত অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ আলামত ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড গুলি। এছাড়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে এক কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, তিন হাজার ৫৮৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯ দশমিক ৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং দুটি বুপ্রেনরফিন ইঞ্জেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় নগদ এক হাজার ৫৪০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্র মামলার আলামত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ দমনে তাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
এই অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ এবং অস্ত্রের উপস্থিতি অপরাধের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদকের উৎস খুঁজে বের করার কাজও চলছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে অপরাধীরা কোনো ধরনের সুযোগ নিতে না পারে।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
