ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানী ঢাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।
একই সময়ে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মোট ৩৭টি মামলা দায়ের করেছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের আটটি বিভাগ এই অভিযানে অংশ নেয়। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮৩ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৬৬ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৮ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৫ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪০ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৮ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিযানে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশি অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার ২২৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১০ গ্রাম গাঁজা। এছাড়া অভিযানকালে ১০টি মোবাইল ফোন, ৭০ লিটার ডিজেল তেল, ৭টি তেলের ড্রাম এবং সিটি গোল্ডের একটি কানের দুল জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে ৬ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য মালামাল জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি সর্বদা তৎপর রয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের অতীত অপরাধের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও গাঁজার উৎস সম্পর্কে তদন্ত চলছে। এছাড়া ডিজেল তেল ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষায় তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্যদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। উদ্ধারকৃত মালামালের পরিমাণ এবং গ্রেফতারের সংখ্যা থেকে বোঝা যায় যে, পুলিশ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে যে, নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের অভিযানের তথ্য গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
