ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘এলিট গ্রুপ সিরাজউদ্দিন অ্যান্ড রাবেয়া সিরাজ ট্রাস্ট ফান্ড’ নামে ২ কোটি টাকার একটি নতুন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের লক্ষ্যে এলিট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুদানের প্রথম কিস্তির চেক হস্তান্তর করা হয়।
মোট ২ কোটি টাকার অনুদানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১ কোটি টাকা আগামী ৬ মাস পর প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ, এলিট গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদুর সিরাজ, পরিচালক শাদান সিরাজ, মো. মামুন-উর-রশীদ, সুরমা চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুর রশীদ এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
এই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদভুক্ত বিভাগসমূহে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হবে। আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বৃত্তি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। বৃত্তির পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এলিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এলিট গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে এই আর্থিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, এলিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হলে তারা অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে।
উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বেসরকারি খাতের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিট গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা উপকৃত হবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার জন্য এলিট গ্রুপের প্রতি আহ্বান জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট নিরসনে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ট্রাস্ট ফান্ড পরিচালনার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে।
এলিট গ্রুপের পক্ষ থেকেও এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের বেসরকারি অনুদান ও অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
