ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একাডেমিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং সাংবাদিকতা—এই চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের অসামান্য অবদানের জন্য তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি জসীম উদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. এস. এম. আরিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
এছাড়া হল সংসদের কোষাধ্যক্ষ ড. রাশেদ আলম ভূঁইয়া, হল সংসদের ভিপি মুহাম্মদ ওসমান গণী এবং এজিএস হিজবুল্লাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হল সংসদের সদস্য মঈনুল মুরসালিন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং সাংবাদিকতার মতো সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে শিক্ষার্থীদের এই সম্পৃক্ততা তাদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়তা করে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই প্রতিভা ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যেন আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। হল সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে হল প্রশাসন ও হল সংসদ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানে হলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং হল সংসদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের এই অর্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
