ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন ওই হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ এবং অভিযুক্ত প্রভোস্টের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয় এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট তাকে হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
নিয়ম অনুযায়ী গত সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ইব্রাহিম জানান, তদন্ত কমিটির কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বারবার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে তা চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, ঘটনার সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজসহ পর্যাপ্ত ভিজ্যুয়াল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি।
এতে তদন্ত প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ইব্রাহিম আরও জানান, সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে তিনবার ফোন করেন কিন্তু প্রক্টর তার ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তিনি প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, প্রতিবেদন প্রস্তুত না হলে তিনি অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।
এরপর তদন্ত কমিটিকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুন এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে ইব্রাহিম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এবং ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভোস্টের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
তিনি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্রভোস্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এবং প্রতিবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার অবস্থানে অনড় থেকে দাবি জানিয়েছেন যে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে অভিযুক্ত প্রভোস্টকে দ্রুত সরিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তিনি আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের লক্ষণ দেখা যায়নি।
ইব্রাহিম তার দাবির স্বপক্ষে অটল থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।
