ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের বিপরীতে প্রাধ্যক্ষ ভবনের সামনে এক রিকশাচালককে অচেতন করে তার রিকশা ছিনতাই করা হয়েছে। শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম এবং এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। ভুক্তভোগী রিকশাচালকের অভিযোগ, যাত্রীবেশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার মুখে বাতাস জাতীয় কোনো পদার্থ স্প্রে করে তাকে অচেতন করে ফেলে এবং এরপর তার রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি প্রথমে নজরে আসে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মুহসিন হলের সমাজসেবা সম্পাদক পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসাইন রবিনের। তিনি শামসুন নাহার হলের সামনে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং দ্রুত প্রক্টরিয়াল টিমকে বিষয়টি জানান। জানা গেছে, ভুক্তভোগী রিকশাচালক প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে ওই স্থানে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে সাজ্জাদ হোসাইন রবিন ও প্রক্টরিয়াল টিমের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় বিষয়টি জানানো হয়।
ভুক্তভোগী রিকশাচালকের নাম চানমিয়া খান, যার বয়স ৪৬ বছর। তিনি মাদারীপুরের চরমুড়া থানার হাজরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। চানমিয়া খানের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দয়াগঞ্জ থেকে জিনজিরা যাওয়ার জন্য তিনজন যাত্রীকে তার রিকশায় তোলেন। এই যাত্রীদের মধ্যে আমজাদ ও বিল্লু নামে দুই ব্যক্তিকে তিনি আগে থেকেই পরিচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে যাত্রাপথে ওই যাত্রীরা তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলেন।
চানমিয়া খানের অভিযোগ, যাত্রাপথে ওই ব্যক্তিরা তার মুখের সামনে বাতাস জাতীয় কোনো পদার্থ স্প্রে করেন। এর ফলে তিনি দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। অচেতন হওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা তার রিকশাটি নিয়ে চলে যান এবং তাকে ওই স্থানে ফেলে রেখে যান। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সামনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার আগে সাজ্জাদ হোসাইন রবিন ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার ফোনে সংরক্ষিত পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করেন। এর ফলে নান্নু এবং রাসেল নামে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসেন। নান্নু নিজেকে চানমিয়া খানের শালা হিসেবে পরিচয় দেন। চানমিয়া খানের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে তার নিজ এলাকায় মোটরযান চালাতেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করেন।
ঘটনার পর শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সাজ্জাদ হোসাইন রবিন পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ভুক্তভোগীর স্বজনদের তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় এসে অভিযোগ করলে তা গ্রহণ করা হবে।
পুরো সময় সাজ্জাদ হোসাইন রবিন ভুক্তভোগীর পাশে ছিলেন এবং পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত তাকে সহায়তা করেন।
