ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৩২ জন গবেষক পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি একজন গবেষককে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ডিবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক সভায় এই ডিগ্রিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত গবেষণার ভিত্তিতে এই ডিগ্রিগুলো প্রদান করা হয়েছে। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ১৬ জন গবেষকের মধ্যে রয়েছেন বাংলা বিভাগের জাহিদ হাসান সরকার ও সানজীদা মাসুদ, আরবী বিভাগের মাসরুরুল হক ও মো. ইসমাঈল হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের তানজিয়া সিদ্দিকা এবং গণিত বিভাগের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন।
এছাড়া ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম্স বিভাগের আবু সাদাত মুহাম্মদ আশিফ, লোক প্রশাসন বিভাগের মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের ফারহানা হক, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের আমেনা খাতুন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিপুল কৃষ্ণ দাস, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের নীলিমা বর্মন, ডিজাস্টার সায়েন্স এন্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের মো. গোলাম কিবরিয়া, শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের দেবাশীষ পাল এবং পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোহাম্মদ রিজওয়ানুল আহসান পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এমফিল ডিগ্রি অর্জনকারী ১৬ জন গবেষকের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের সুমাইয়া আলম, আরবী বিভাগের মুহাম্মদ বদরুদ্দীন সাদী, নূরুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাজেদ, উর্দু বিভাগের আলপনা আকতার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. আবদুল্লাহ আল মুবাশ্বির, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাথী খাতুন, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের রোমানা রহমান এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দেওয়ান আফরিদা হামিদ।
এছাড়া কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের মো. জাহিদ হোসাইন খান, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের এইচডি. রাজু আহমেদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুহাম্মদ কবির হোছাইন ও আবদুল মান্নান, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবিকুন্নাহার এবং খন্দকার নাহিদ হাসানো এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধীনে মুহাম্মদ তামজিদ আল আরাফাতকে ডিবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ডিগ্রিগুলো চূড়ান্ত করা হয়। উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই অর্জন সংশ্লিষ্ট গবেষকদের একাডেমিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বিভাগের গবেষকদের গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে এই ডিগ্রিগুলো প্রদান করে থাকে।
এই ডিগ্রিপ্রাপ্ত গবেষকরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণার প্রসারে অবদান রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী, পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি অর্জনের জন্য গবেষকদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করতে হয় এবং তাদের গবেষণাপত্র বিশেষজ্ঞ প্যানেল কর্তৃক মূল্যায়িত হতে হয়।
সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই গবেষকদের ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে। ডিগ্রিপ্রাপ্তরা এখন থেকে তাদের নামের সাথে এই অর্জিত উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের অধীনে এই গবেষণাগুলো সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
