ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. রাশেদ খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে রাশেদ খান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং পরবর্তী সময়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গোলাম রাব্বানীর এমফিল ছাত্রত্বকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গোলাম রাব্বানীকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার ডাকসু সাধারণ সম্পাদকের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি উপদেষ্টার কাছ থেকে আইনি মতামত পাওয়ার পর সিন্ডিকেট রাশেদ খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের পর রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাশেদ খান তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ডাকসু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণার পর উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছেন এবং তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
রাশেদ খান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক ছিল। সেই নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছিল। গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল হলে তার অর্জিত পদ বা পদবি বহাল থাকার সুযোগ নেই। সেই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার এই সিদ্ধান্তটি ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাশেদ খানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন যে, আইনি পরামর্শ এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর তার পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার মাধ্যমে তার নতুন দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আর কোনো বাড়তি মন্তব্য করা হয়নি। তবে সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনের দীর্ঘ সময় পর এই ধরনের পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। রাশেদ খান বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, যা তার এই নতুন পদবি পাওয়ার পর আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সকল আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
