বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এই লংমার্চ কর্মসূচিকে তিনি একটি ওষুধের সাথে তুলনা করে দাবি করেন যে, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো কার্যকর হতে শুরু করেছে এবং এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের এই কর্মসূচি এখন ওষুধের মতো কাজ করছে এবং এর প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে, এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সমাবেশে তিনি জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয়টি দাবির কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।
এর পাশাপাশি তিনি সপ্তম দাবি হিসেবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজকে সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিরোধী দলীয় নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, জনগণ তাদের ছাড় দেবে না।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। তার মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছে। শাপলা চত্বরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা লংমার্চ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন।
সমাবেশে জোটের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা তাদের বক্তব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, দেশের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, তাদের এই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার আদায়ের একটি সংগ্রাম।
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে লংমার্চ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। এই লংমার্চের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি যাত্রা নয়, বরং এটি দেশের মানুষের মনের কথা প্রকাশের একটি মাধ্যম। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
শাপলা চত্বরের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। লংমার্চটি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা করেছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে এবং তারা জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের জন্যই তারা রাজপথে নেমেছেন। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের এই কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
লংমার্চের প্রতিটি ধাপে তারা তাদের দাবিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান এবং তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
