গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি স্বাগত মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পুনরায় বহদ্দারহাট মোড়ে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর ও চান্দগাঁও থানা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ ওমর গনির সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ড সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমীর মোহাম্মদ ইসমাইল।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রইসুর রহমান চৌধুরী তিতু। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন যে জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। তিনি জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও সারের চলমান সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানান। এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই কর্মসূচিকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন চান্দগাঁও থানার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল এবং ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল আহাদসহ থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন যে, জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জিত গণরায় বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনসেবামূলক খাতের সংকটগুলো নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
মিছিল ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
