জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে আয়োজিত লংমার্চের এক পথসভায় সরকারের প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত এই পথসভায় তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে স্লোগান দিয়ে বলেন, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে।
১১ দলীয় ঐক্যের জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারকে অবশ্যই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সরকার এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
এই লংমার্চের উদ্দেশ্য কেবল জ্বালানি সংকট নিরসন নয়, বরং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন যে, চট্টগ্রাম অভিমুখে তাদের এই লংমার্চ সফল হবে এবং সাধারণ মানুষের দাবিগুলো সরকার আমলে নিতে বাধ্য হবে। লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বাজার পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এই দাবির অন্যতম অংশ। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এবং এটি উন্নত করা জরুরি।
এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণের যে অভিযোগ রয়েছে, তা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং এই দাবি পূরণে কোনো গড়িমসি করা যাবে না।
লংমার্চটি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। পথসভায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের এই কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক মহড়া নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার আদায়ের একটি সংগ্রাম। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে মৌলিক চাহিদাগুলো পাওয়ার। সরকার যদি জনগণের এই অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।
সিদ্ধিরগঞ্জের এই পথসভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন যে, বর্তমান সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সার ও জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষিখাত ও শিল্পখাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে এই সংকট নিরসন না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে আরও বলেন, তাদের এই লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং তারা তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার জনগণের এই দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, তাদের এই লড়াই কেবল বর্তমান সংকটের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য।
লংমার্চের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের ভোগান্তি ও সংকটের কথা তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম তাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তাদের এই আন্দোলন জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাদের দায়িত্ব।
এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান যাতে সাধারণ মানুষের দাবিগুলো দ্রুত পূরণ হয়। নাহিদ ইসলাম পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের এই মৌলিক দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা গদি ছাড়তে বাধ্য হবে।
এটি কোনো হুমকি নয়, বরং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। লংমার্চটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিটি পথসভায় নেতৃবৃন্দ তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরছেন। তারা আশা করছেন যে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
