শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে বনানী থানা পুলিশ। সকাল পৌনে নয়টার দিকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে পারে।
মরদেহটি উদ্ধারের সময় তার পরনে নীল রঙের একটি শার্ট ছিল, যা দেখতে অনেকটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ইউনিফর্মের মতো। এছাড়া তার পরনে একটি লুঙ্গি ছিল। মৃত ব্যক্তির মুখ সাদা রঙের স্কচটেপ দিয়ে শক্তভাবে আটকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো এক সময়ে অথবা ভোরের দিকে তাকে হত্যার পর মরদেহটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে গেছে বলে পুলিশ মনে করছে। এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার তদন্তের বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পুরো এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে।
পুলিশ এখন সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছে। ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করলে মরদেহটি কখন এবং কীভাবে সেখানে আনা হয়েছে, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। এছাড়া কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশি তদন্তের অংশ হিসেবে এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং সময় সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার জন্য তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে।
এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি বা কাউকে আটক করা হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে মরদেহটি এলো এবং কারা এর পেছনে রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
মরদেহটি উদ্ধারের পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সঠিক তথ্যের জন্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ওপর নির্ভর করতে বলেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শেষে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে মরদেহটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
