রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় মোট আটজন জড়িত ছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃত অপর ব্যক্তির নাম তরিকুল ইসলাম ওরফে তাপস। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান এবং আটটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ডেমরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ব্যক্তি বিএনপি নেতার বাসার সামনে এসে উপস্থিত হন।
এরপর তারা বাড়িটি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
মাদক বিক্রিতে বাধা প্রদান এবং স্থানীয় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম অভিযোগ করেছেন, তার এলাকায় অনলাইনে মাদক কেনাবেচা চলছিল। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা আওয়ামী লীগ আমলের মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মাসুদ তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছিলেন। রেজা চৌধুরী বলেন, মাসুদ তাকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন তিনি মাদক নিয়ে কথা বলছেন।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্রের দাবি, শুধু মাদক নয়, এলাকার ফুটপাত ও টেম্পোস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিএনপি নেতার সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। যদিও এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাইফুর রহমান মির্জা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির উৎস সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে বিএনপি নেতার ভূমিকা এবং এর বিপরীতে অপরাধী চক্রের এই ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের পর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
বর্তমানে এলাকাটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
