রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সেলিমের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা এবং তাপস নামের আরেক ব্যক্তি। ডেমরা থানা এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী বিভাগ।
ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, গত ২৮ আগস্ট ভোরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় মো. সেলিমের বাড়িতে গুলির ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন ব্যক্তি ওই বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়ে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাপসের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডেমরা থানাধীন সুলতানা কামাল সেতুর ঢাল থেকে তাপসকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বরাবো শরীফ মেলামাইলন-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
সেখান থেকে মামলার আরেক আসামি মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, রূপগঞ্জের ওই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরের কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে একটি পুরোনো একনলা শর্টগান এবং আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জের বরাবো এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়।
সেখানে ঘরের সানসেটের ওপর থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে গত ২৮ আগস্ট বিএনপি নেতার বাড়িতে চালানো গুলির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং এই ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ডেমরা থানা পুলিশ এই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হতে পারে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
