ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, রাজধানীর ডেমরায় বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ৩৮ বছর বয়সী তাপস এবং একই বয়সী মো. মাসুদ রানা।
পুলিশ জানিয়েছে, মাসুদ রানা ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৮ আগস্ট ডেমরা থানা বিএনপি আহ্বায়ক মো. সেলিমের বাড়িতে গুলির ঘটনাটি ঘটে। ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় অবস্থিত ওই নেতার বাড়িতে আটজন ব্যক্তি চারটি মোটরসাইকেলে করে এসে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এই গুলির ঘটনায় বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।
ঘটনার পর ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ তাপসের সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে সুলতানা কামাল সেতুর কাছ থেকে তাপসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাপসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
রূপগঞ্জের বারাবো শরীফ মেলামাইন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই অভিযানের সময় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে একটি পুরোনো শটগান এবং আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত তাপস ও মাসুদ রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জের বারাবো এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
ওই বাসা থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডেমরা থানা এলাকায় বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলির এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তারা অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা চালিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং অপরাধীদের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশি তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ডেমরা থানা পুলিশ এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
