দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন মারা গেছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। এই নতুন মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা রয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৫৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৯ হাজার ৪৭৯ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন যে হারে নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও নিয়মিত রোগী ভর্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মশা নিধনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে শয্যা সংকট ও ওষুধের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষ করে জ্বর আসার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মশা নিধন কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিতভাবে লার্ভা ধ্বংস করার জন্য ওষুধ ছিটানো এবং ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার কাজ চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশার বংশবিস্তার অব্যাহত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ আবাসস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে বা পরিত্যক্ত পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে আলাদা কর্নার বা ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পেতে পারেন। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
