দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৃত পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ হাজার ২৮০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৪৩৩ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট দুই হাজার ৭৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০৭ জনের মধ্যে ৫৯ জন নারী, যা মোট মৃত্যুর ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরুষ মারা গেছেন ৪৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালগুলোতে ৩৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতালগুলোতে ১৫ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে সাতজন এবং রাজশাহী বিভাগে চারজন মারা গেছেন। রংপুর ও সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত একজন করে রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক হাজার ১১০ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং শয্যা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। এছাড়া, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে মশা নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঠিক পরিসংখ্যান এবং চিকিৎসার তথ্য নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করছে।
