রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার নিজ জেলায় প্রথম সফর। রোববার দুপুর ১টার দিকে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউজে যান এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর তিনি শহরের সেনুয়া এলাকায় তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলার মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আল্লাহ যেন তাকে তৌফিক দান করেন যাতে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও ঠাকুরগাঁও নার্সিং কলেজের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা এবং কৃষকদের জন্য ইপিজেড দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের পথে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজ জেলার সন্তানকে একনজর দেখতে সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, তাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন, যা ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আগমন ও যাতায়াতের পথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
রাষ্ট্রপতির এই সফর ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
