মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’-এর উদ্বোধন করেন। এই উৎসবের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরীফা হক এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তাঁতের শাড়ি তুলে ধরতে চান তারা। এই পণ্যগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে সার্বিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উৎসবের মাধ্যমে দেশব্যাপী মিষ্টির আরও প্রসার ঘটবে। উৎসবের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ির প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনটি মিষ্টি ও তাঁতশিল্পের সমন্বয়ে টাঙ্গাইলের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, তবে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে সবার সামনে তুলে ধরা এবং জিআই পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং করা। তিনি আরও জানান, এই উৎসবটি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য তিনটি। প্রথমত, ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তুলে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা। দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং তৃতীয়ত, স্থানীয় পণ্য প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত টাঙ্গাইলের এই শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
উৎসবের প্রথম দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা এই আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। ক্রেতা মরিয়ম আক্তার জানান, এখানে অনেক ধরনের মিষ্টির পাশাপাশি টাঙ্গাইল শাড়ির প্রদর্শনী দেখে তাদের ভালো লেগেছে এবং তিনি প্রতি বছর এমন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিক্রেতারা জানান, তারা নানা ধরনের মিষ্টি নিয়ে এসেছেন এবং টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম দিন থেকেই তারা ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান।
জেলা মিষ্টি মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা টাঙ্গাইল পোড়াবাড়ির চমচম-এর ঐতিহ্য তুলে ধরতে পেরেছেন। তিনি জানান, প্রতি বছর এই আয়োজন করা হলে এর কদর আরও ছড়িয়ে পড়বে।
এই উৎসবটি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মিষ্টির কারিগর, মিষ্টির ব্যবসায়ী এবং তাঁতশিল্পীদের জন্য নতুন বাজার ও ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় শিল্পকে কেন্দ্র করে এই আয়োজনটি জেলার পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
