টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী একটি মিষ্টি উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন এই মেলার উদ্বোধন করেন। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলো এই উৎসবে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন যে, টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে পরিচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও এই ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যটিকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বলে তিনি জানান।
এই উৎসবে জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে আলাদা আলাদা স্টল দেওয়া হয়েছে। এসব স্টলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বিশেষ মিষ্টিগুলো রাখা হয়েছে। মেলায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চমচম, মির্জাপুরের জামুর্কীর সন্দেশ, মধুপুরের জিলাপি, গারোর বাজারের রসগোল্লা, নাগরপুরের কাঁচা গোল্লা এবং বাসাইলের সাদা দইসহ আরও নানা ধরনের মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে।
শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। শহরের বাসিন্দা বর্ণ দাস জানান যে, তিনি তার জেলার বিভিন্ন এলাকার মিষ্টির নাম শুনলেও আগে সবগুলোর স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাননি। মেলায় এসে একসঙ্গে এত ধরনের মিষ্টি দেখে এবং খেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়েছেন বলে জানান।
শহরের সাবালিয়া এলাকার বাসিন্দা অমিনুর রহমান তার মেয়েকে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন যে, টাঙ্গাইলের মিষ্টির জন্য অনেক সুনাম রয়েছে এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নানা রকমের মিষ্টি তৈরি হয়। তার ছোট মেয়েকে এই সব মিষ্টির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি তাকে মেলায় নিয়ে এসেছেন বলে জানান।
ব্যক্তিগত কাজে মানিকগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইলে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানও মিষ্টি উৎসবের কথা শুনে মেলায় ভিজিট করেন। তিনি সেখানে মিষ্টি খেয়ে বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যান। সরকারি মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন যে, টাঙ্গাইলে আগে কখনো এমন উৎসব হয়নি। তার মতে, এই আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
মেলায় অংশ নেওয়া জয় কালী মিষ্টাণ্ন ভান্ডারের মালিক এবং জেলা মিষ্টি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন ঘোষ জানান যে, মেলায় প্রচুর মানুষ আসছেন এবং মিষ্টির প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মিষ্টি উৎসব সফল হবে বলে তিনি মনে করেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জানান যে, এর মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।
