কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ রুহল আমিন নামে ১৮ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ খারাংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
আটক রুহল আমিন টেকনাফের মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে। উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার বিএসপি পোস্টের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়।
টহল চলাকালীন বিজিবি সদস্যরা মিয়ানমারের দিক থেকে এক ব্যক্তিকে একটি বস্তা হাতে সন্দেহজনকভাবে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেন। বিজিবি সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দিলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃত যুবকের কাছে থাকা বস্তাটি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহল আমিন বিজিবিকে জানিয়েছেন যে, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এই ইয়াবার চালানটি সংগ্রহ করেছিলেন। অধিক মুনাফার আশায় তিনি এই মাদকদ্রব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালান এবং আটক যুবককে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবির এই ধরনের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের একটি বড় চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে। ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে বিজিবি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। আটককৃত যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের ঘটনা নতুন নয়, তবে বিজিবির এই সফল অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য এবং এর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং মাদক নির্মূলে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিজিবি আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আটক রুহল আমিনকে বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের মূল হোতাদের নাম জানার চেষ্টা চলছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান রোধে তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
